নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শান শওকত

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শান শওকত , বন্দুকধারী, সুরক্ষা বাহিনী, অফিস ও বাড়িতে জাতীয় পতাকা, গাড়িতে নিজস্ব পতাকা

ইত্যাদি থাকা আমার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। আমি নির্বাচন নিয়ে নীরব জনগণের নীরব ভাষা শুনতে চেয়েছিলাম এবং তাদের

মনোভাব অনুসরণ করতে চেয়েছিলাম। কারণ, নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন অপরিহার্য। বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ার সামনে যে বক্তৃতা

দিয়েছি, সেসব বক্তৃতায় মুখর হয়েছি নিরব ভাষার। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির উত্তেজনা এড়াতে পারলাম না।দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনি

প্রথম কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করেছেন। যে প্রশংসা ছিল. সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনেও ভালো হয়েছে। কিন্তু মাঝখানে

প্রায় সব স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এটার কারণ কি?মাহবুব তালুকদার: কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের

সময় নতুন কমিশন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালনে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। প্রথমে আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শান শওকত

হয়েছিলাম। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা চাপের কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন সম্ভব, তা প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে এবারের নির্বাচন ছিল ব্যতিক্রমী। অন্যদিকে, আমি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং এর প্রকৃতির দিকে নজর রাখছি। আমি এর বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করি এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমি একক ভূমিকা রেখেছি। অনিয়মের কারণে সহকর্মীদের অসহযোগিতায় বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঠেকাতে পারিনি। এই দুই নির্বাচনে কমিশনের কোনো কর্তৃত্ব ছিল বলে মনে হয় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতিত্ব দৃশ্যমান ছিল। আবারও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল অনিয়মের নমুনা। বাকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই অবস্থা। যেন নির্বাচন হয়েছে।মাহবুব তালুকদার: 30 জুলাই 2019 তারিখে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তত্ত্বাবধানের একমাত্র দায়িত্বে ছিলাম। নির্বাচনের আগে, আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রার্থী,

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করি। সকাল ৮টায় টেলিভিশনে ভোটকেন্দ্রে ভিড় দেখে আমি খুবই আশাবাদী যে বরিশালে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবর্তন হতে থাকে। এরপর থেকে বিভিন্ন নেতিবাচক খবর ও প্রতিবেদন আসতে থাকে। আমরা সিইসি কার্যালয়ে বসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছিলাম। একজন কমিশনার প্রথমে জানান, নির্বাচনে ব্যবহৃত ট্যাবটি সকাল সাড়ে ৮টায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে আরও খবর আসে, কমিশনের একজন নারী সিস্টেম অ্যানালিস্টকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে আমি মনে করি, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। সিইসিসহ সব কমিশনার প্রাথমিকভাবে আমার মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। কিন্তু কোন আইনে নির্বাচন ঠেকাতে পারি, যুগ্ম সচিবকে (আইন) ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়।

আরো পড়ুন 

About admin

Check Also

সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে

সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে

সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে , আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। অন্য একজনকে অবৈধভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.